নফস পবিত্রকরণ

এখন প্রতিটি বাড়িতে অনেক লোকজন বসবাস করে। প্রত্যেকের শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। আমরা শ্বাস নেই ও শ্বাস ছাড়ি। শ্বাসের সাথে তাপ নির্গত হয়। আবার আমাদের শরীর থেকেও তাপ নির্গত হয়। এজন্য ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যত লোক বাড়বে তত তাপমাত্রা বাড়বে। তেমনি আমাদের সাথে এই দুনিয়াতে জ্বীনরাও বসবাস করে, কিন্তু আমরা তা দেখতে পাই না। মানুষের ৯ মাসে বাচ্চা পয়দা হয়, কিন্তু জ্বীনদের ৩ মাসে বাচ্চা পয়দা হয়। আমাদের একবারে ১টি বাচ্চা পয়দা হয়, কিন্তু জ্বীনদের একবারে ৮০ টি বাচ্চা পয়দা হয়। এজন্য জ্বীনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে আমাদের চারপাশের পরিবেশের তাপমাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে। পরিবেশে নার (negative energy) এর পরিমাণ এখন অনেক বেশী। মানুষ মাটি, পানি, আগুন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি। কিন্তু জ্বীনরা শুধুই আগুনের তৈরি। এজন্য জ্বীন থেকে বেশী নার নির্গত হয়। আদম শফিউল্লাহর যুগে জ্বীনের সংখ্যা অনেক কম ছিল। তাই পরিবেশে নারের পরিমাণও খুব কম ছিল। কোনো ভালো কাজ করতে গেলে বাঁধা আসে। তখন আমাদেরকে সেই বাঁধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এসব বাঁধার কারণে আমাদের কাজের গতি কমে যায়। নফস পবিত্র করার ক্ষেত্রে আমাদের বাঁধা এই নার। নারকে অতিক্রম করে আমাদেরকে নফস পবিত্র করার প্রচেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। মানুষের শরীর থেকে যে নার নির্গত হয় তা জাহেরি নার। এ নার শুধু আমাদের শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু জ্বীনরা যে নার নির্গত করে তা বাতেনি নার। এ নার আমাদের মনের উপর প্রভাব ফেলে। এসব নার আমাদের রূহানিয়াতে চলার পথে বাঁধার সৃষ্টি করে। আমরা এখন পৃথিবীর শেষ সময়ে বসবাস করছি। এখন নারের পরিমাণ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আকাশচুম্বী। এখন নূর (positive energy) নেই বললেই চলে। যা আছে সবই নার। কারণ নূর বা পজিটিভ এনার্জি শুধুমাত্র কামিল রূহানী ব্যক্তিদের থেকে এসে থাকে। যাদের ভিতরে নূর রয়েছে তাদের থেকে এসে থাকে। আর এদের সংখ্যা তো খুবই নগণ্য। আর বাকি সব মানুষ থেকে আসে ও জ্বীন থেকে আসে নার বা নেগেটিভ এনার্জি। ফলে আমাদের রূহ ও অন্যান্য লতিফাগুলো এই নার বা নেগেটিভ এনার্জির মাঝে শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। এই নেগেটিভ আবহাওয়া তাদের জন্য খুবই পীড়াদায়ক।
আমাদের নফস ৩টি উৎস থেকে নার গ্রহণ করে বেঁচে থাকে –
১। আমাদের জাগতিক কর্মের মাধ্যমে যে নার তৈরি হয়
২। আমাদের খাবারের মাধ্যমে আমাদের দেহে যে নার প্রবেশ করে
৩। আমাদের পরিবেশে যে নার বিদ্যমান রয়েছে
আজ থেকে ২/৩ হাজার বছর আগে ‘তাজকিয়াতুন নফস’ করার জন্য তখনকার রূহানী ব্যক্তিরা নিজেদেরকে কঠোর এবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত করতেন, জাগতিক কামনাবাসনা ও পাপ কর্ম থেকে দূরে থাকতেন এবং নফস যেসব খাবার থেকে নার পায় সেসব খাবার যেমন, মাছ, মাংস, ডিম এসব খাওয়া বন্ধ করে দিতেন। তারা শাক-সবজি খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। অর্থাৎ এক কথায় তারা সন্ন্যাস জীবন যাপন করতেন। ফলে নফস আমাদের জাগতিক কর্ম এবং খাবারের মাধ্যমে আর নার পেতো না। আর যেহেতু তখন পরিবেশে তেমন নার ছিল না, তাই সেখান থেকেও নফসের খুব বেশী নার পাওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে নফস ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়তো। এক সময় বেঁচে থাকার জন্য সে বাধ্য হয়ে নারের পরিবর্তে নূরকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করা শুরু করতো এবং ক্রমান্বয়ে পবিত্র হয়ে যেতো। ফলে তখন সন্ন্যাস জীবনের মাধ্যমে নফসকে পবিত্র করা সম্ভব ছিল।
কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন জীনের সংখ্যা এত বেশী যে, তারা সব গাছের পাতায় পাতায় পেশাব করে। ফলে এখন শাক-সবজির ভিতরেও নার ঢুকে গেছে। এখন আর শুধু মাছ-মাংস-ডিম এর ভিতরে নার আছে তা নয়। এখন সব খাবারের ভিতরেই নার রয়েছে। ফলে শাকাহারী হয়ে এখন আর তেমন কোনো লাভ হচ্ছে না। নফসের তাহারাত আসছে না। আবার রোজা রেখে না খেয়ে থাকলেও তেমন কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ নফস তখন পরিবেশ থেকে নার গ্রহণ করছে। ফলে তার তাহারাতের জন্য যতটা দুর্বল হওয়া প্রয়োজন ততটা দুর্বল সে হচ্ছে না। তাই কার্যত এখন রোজাও অকার্যকর হয়ে গেছে। সন্ন্যাস জীবন আর কাজে আসছে না। এজন্যই শেষ জামানা অত্যন্ত কঠিন।
তাহলে এখন উপায় কি? নফসের তাহারাতের জন্য এখন আমাদের প্রয়োজন দুইটা জিনিস –
১। কামিল মুর্শিদের সোহবত এবং
২। তাঁর রূহানী নজর
এই দুইটি জিনিস ব্যতীত বর্তমান সময়ে তাজকিয়াতুন নফস অসম্ভব।
সাইয়্যিদিজির প্রতিদিনের লাইভ মেহফিলে আমাদের এই সোহবত ও নজর-এ-করম অর্জিত হয়। এই লাইভ মেহফিল হচ্ছে আমাদের জন্য এক রূহানী টীকা। প্রতিদিন সাইয়্যিদিজির সোহবতে আমাদের নফসের উন্নতি হতে থাকে। আর যদি কয়েক দিন আমরা এই লাইভ মেহফিলে না আসি তাহলে আমরা অনুভব করতে পারি যে, আমাদের নফস ক্রমান্বয়ে নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে বা আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অর্থাৎ আমাদের ভিতরে নূরের পরিমাণ কমছে এবং নারের পরিমাণ বাড়ছে। কোরানেও আছে, রাসূলুল্লাহর সোহবতে সাহাবীদের নফস পবিত্র হতো।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ১৫১ (২:১৫১)
কামা আরছালনা ফীকুম রাছূলাম মিনকুম
আমরা তোমাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেছি
ইয়াতলু আলাইকুম আয়াতিনা
তিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন
ওয়া ইউ ঝাক্কীকুম
এবং তোমাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করে
ওয়া ইউ আল্লিমুকুমুল কিতাবা ওয়াল হিকমাতা
এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়
ওয়া ইউ আল্লিমুকুম মা লাম তাকুনু তাআলামুন
এবং তোমাদেরকে এমন সব বিষয়ে শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না
তাই এই শেষ জামানায় নফসকে পরিশুদ্ধ করতে হলে প্রতিদিন সুফি মাসটার সাইয়্যিদিজি ইউনুস আল-গওহর এর লাইভ মেহফিলে অংশগ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র সেখানেই আমরা একজন কামিল মুর্শিদের সোহবত পাবো এবং আমাদের নফস পবিত্র থেকে পবিত্রতর হতে থাকবে।